বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপে তিনি এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘Technology, Talent and Partnerships for Bangladesh’s Future’। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।
প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে গুরুত্ব
সংলাপে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। ড. তিতুমীর জানান, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প এবং দক্ষ কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করার জন্য দেশের রাজস্বনীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি আলোচনায় বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প চিহ্নিত ক
রা, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ এবং সহযোগিতার পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতার সুফল যেন দেশের মানুষের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার উন্নয়নে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতা উন্নয়ন
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিশুদের মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল অর্থনীতির উপযোগী ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও AI-এর উপযুক্ত ব্যবহার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে ফলাফল যাচাই করার পর তা বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতার সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ও সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এই সংলাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন ব্যবহার নিয়ে আলোচনা ও উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Uber ও NVIDIA-সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।
এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি জ্ঞান বিনিময়, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে নির্দিষ্ট প্রকল্প, বিনিয়োগ বা বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
উপসংহার
প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল উন্নয়নের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শিল্প খাতে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
What do you feel about this post?
Like
Love
Happy
Haha
Sad

