যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভিসা অনুমোদনের আগেই কোনো বন্ড বা টাকা পরিশোধ করবেন না। আগাম অর্থ প্রদান করলে ভিসা নিশ্চিত হয় না এবং এতে প্রতারণার ঝুঁকি রয়েছে। মঙ্গলবার দূতাবাসটি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ সতর্কতা জারি করে।
দূতাবাস কী বলেছে?
বিবৃতিতে বলা হয়, আগাম অর্থ পরিশোধ করলে ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট বা ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা দিলে তা প্রতারণা হতে পারে।
২১ জানুয়ারি থেকে বন্ড দিতে হতে পারে বাংলাদেশিদের
মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারি থেকে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক B1/B2 (ব্যবসা বা পর্যটন) ভিসার জন্য অনুমোদিত হবেন, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বন্ড দিতে হতে পারে।
তবে যারা ২১ জানুয়ারির আগেই ইস্যু করা বৈধ B1/B2 ভিসা বহন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
কেন এই বন্ড ব্যবস্থা?
বার্তা সংস্থা Reuters–এর ৬ জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে এমন একটি তালিকায় যুক্ত করেছে, যাদের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বন্ড দিতে হতে পারে।
এই বন্ড ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো
- ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান (Overstay) রোধ করা
- পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার অপব্যবহার কমানো
বন্ডের পরিমাণ কত হতে পারে?
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী
- যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে
- ৫,০০০ ডলার, ১০,০০০ ডলার অথবা ১৫,০০০ ডলার বন্ড নির্ধারণ করা হতে পারে
চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময়।
কোথায় এবং কীভাবে বন্ড পরিশোধ করতে হবে?
দূতাবাস জানিয়েছে
- আবেদনকারীকে অবশ্যই বন্ডের শর্তে সম্মতি দিতে হবে
- অর্থ পরিশোধ করতে হবে শুধুমাত্রUS Treasury Department-এর অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম Pay.gov–এর মাধ্যমে
কোনো এজেন্ট, দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে টাকা দেওয়া যাবে না।
তালিকায় কতটি দেশ?
বর্তমানে এই তালিকায় রয়েছে মোট ৩৮টি দেশ, যার বেশিরভাগই—
- আফ্রিকা
- লাতিন আমেরিকা
- দক্ষিণ এশিয়ার দেশ
নতুন যুক্ত হওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই নীতি ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- ভিসা অনুমোদনের আগে কোনো টাকা দেবেন না
- শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও দূতাবাসের তথ্য অনুসরণ করুন
- সন্দেহজনক কল, মেসেজ বা ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলুন
সূত্র: US Embassy, Reuters
আপডেট: জানুয়ারি ২০২6