Skip to content

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড: কীভাবে কাজ করবে নতুন নিয়ম

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর এবার ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম এর আওতায় সীমিত মেয়াদের ভিসা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দূতাবাসের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, এই প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশিরা সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য একবার প্রবেশযোগ্য (Single Entry) মার্কিন ভিসা পাবেন। সোমবার প্রকাশিত এক বার্তায় দূতাবাস ভিসা বন্ড ব্যবস্থার শর্ত, পরিশোধ পদ্ধতি এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনা তুলে ধরেছে।

কেন চালু হলো ভিসা বন্ড প্রোগ্রাম

এর আগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা বন্ড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো ভিসা ওভারস্টে প্রতিরোধ করা। যেসব দেশের নাগরিকরা অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন— মূলত সেসব দেশকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

ভিসা বন্ডে কী কী শর্ত মানতে হবে

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামে আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত প্রযোজ্য হবে

  • ভিসা অনুমোদনের পর ৩০ দিনের মধ্যে বন্ড পরিশোধ করতে হবে।

  • ভিসা ইন্টারভিউ শেষে যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা Pay.gov এর অফিসিয়াল লিংকের মাধ্যমে পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন।

  • ভিসার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ৩ মাস, এবং এটি হবে Single Entry.

  • যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজ করা যাবে না।

  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে জমা দেওয়া বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়া যাবে।

কত টাকা পর্যন্ত ভিসা বন্ড লাগতে পারে

ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে আবেদনকারীর ভিসা মূল্যায়নের সময়।

নির্ধারিত বিমানবন্দর ছাড়া প্রবেশ করলে কী হবে

ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাত্র তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)

  • জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)

  • ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)

এই নির্ধারিত বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যার ফলে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যেসব দেশ ভিসা বন্ড তালিকায়

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে।
আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

ভিসা বন্ড আসলে কী

ভিসা বন্ড হলো একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা, সঠিকভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *