Skip to content

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ মানি চেঞ্জাররা নিতে পারবেন সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা

বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট সংক্রান্ত ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা  অনুযায়ী, এখন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট বাবদ সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নিতে পারবেন। এনডোর্সমেন্টের পরিমাণ যত বেশি হোক না কেন, ফি এর পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জিএফইটি ২০১৮ (Guidelines for Foreign Exchange Transactions) অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো

  • গ্রাহক হয়রানি রোধ

  • অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করা

  • এনডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট কী?

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট বলতে বোঝায়, বিদেশ ভ্রমণের আগে একজন যাত্রী তার বার্ষিক ভ্রমণ ভাতার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কেনার তথ্য পাসপোর্টে লিপিবদ্ধ করা। এই এনডোর্সমেন্টের মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করে যে, একজন নাগরিক নির্ধারিত সীমার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন।

কোন কোন মুদ্রা এনডোর্স করা যাবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মানি চেঞ্জাররা বিদেশগামী যাত্রীদের কাছে

  • বিদেশি নোট

  • কয়েন

  • ট্রাভেলার্স চেক

বিক্রি করতে পারবেন এবং সেগুলোর তথ্য পাসপোর্টে এনডোর্স করবেন।

এনডোর্সমেন্টের সময় কী কী বাধ্যতামূলক?

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টের সময় মানি চেঞ্জারদের কিছু নিয়ম অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে

  1. যাত্রীর পাসপোর্ট ও বৈধ বিমান টিকিট যাচাই করতে হবে

  2. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষরসহ এনডোর্সমেন্ট করতে হবে

  3. এনডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এই তথ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে
  4. গ্রাহকের কাছ থেকে ফি নেওয়ার পর রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক
  5. আদায় করা ফি এর সঠিক হিসাব ও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে

কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?

এর আগে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ছিল যে, এনডোর্সমেন্টের পরিমাণ বেশি দেখিয়ে বা ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছিল। নতুন এই নির্দেশনার ফলে—

  • যাত্রীরা আগে থেকেই জানবেন সর্বোচ্চ কত টাকা দিতে হবে

  • মানি চেঞ্জারদের মধ্যে জবাবদিহিতা বাড়বে

  • অবৈধ ফি আদায়ের সুযোগ কমবে

বিশেষ করে যারা ওয়ার্ক ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা, ভিজিট ভিসা বা ওমরাহ/হজ ভিসা নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একটি স্বস্তির খবর।

আগের সার্কুলারগুলোর কী হবে?

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই নতুন নির্দেশনার পাশাপাশি আগে জারি করা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত সার্কুলারের নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ, ভ্রমণ ভাতার সীমা, ডকুমেন্টেশন ও অন্যান্য নিয়ম আগের মতোই কার্যকর থাকবে।

যাত্রীদের জন্য পরামর্শ

বিদেশে যাওয়ার আগে যাত্রীদের উচিত—

  • কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার থেকে এনডোর্সমেন্ট করানো

  • নির্ধারিত ৩০০ টাকার বেশি ফি চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি জানানো

  • রসিদ সংগ্রহ করে রাখা

  • প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করা

উপসংহার

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশগামী নাগরিকদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও মানসম্মত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ভ্রমণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *